চুনারুঘাটে বন বিভাগের গাছ চুরির মামলায় সানু কারাগারে

চুনারুঘাট উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে সরকারি গাছ কাটা ও পাচারের সময় বন বিভাগের অভিযানে হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সানু মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার বাদী বন বিভাগের কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ (৫২)। তিনি হবিগঞ্জ সামাজিক বন বিভাগের স্পেশাল টিমে কর্মরত। মামলার অপর অভিযুক্ত মো. শফিক মিয়া ওরফে পাং কাটা শফিক (৪৮)। তারা উভয়েই চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের গাঙ্গাইল কুরবানপুর এলাকার বাসিন্দা। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ দুপুরে সানু মিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট আদালতের জিআরও।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের একটি টহল দল চুনারুঘাট থানাধীন গাজীপুর ইউনিয়নের গাঙ্গাইল এলাকার রেমা-কালেঙ্গা রেঞ্জের বন বিট সংলগ্ন আমিনুল তবার দোকানের পাশে অভিযান চালায়। অভিযানকালে বন বিভাগের সদস্যরা দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাটা বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ একটি পিকআপ গাড়িতে বোঝাই করছে। তাদের আটক করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং সরকারি কাজে বাধা দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্যমতে, অভিযুক্তরা সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে শিমা গুতগুতিয়া, জাম ও পাহাড়ি শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের চেষ্টা করছিল। এ সময় বন বিভাগের টহল দল ঘটনাস্থল থেকে চোরাই কাঠ জব্দ করেন এবং পরে স্থানীয় একটি ট্রাক্টর ভাড়া করে সেই কাঠ গুলো চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জব্দকৃত কাঠের আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে বন বিভাগের স্পেশাল টিমের সদস্য মো. ইকবাল মিয়া, মো. আব্দুল মালেক, মো. আব্দুল কাদের ও মো. আব্দুল মজিদসহ কয়েকজন বন প্রহরী উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, আটক আসামিকে রিমান্ডে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনা ঘটে আসছে। বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও মাঝে মধ্যে এমন প্রতিরোধ বা হামলার ঘটনাও ঘটছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত বন রক্ষা ও অবৈধ গাছ কাটা বন্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন