বাহুবলের হরিতলায় সিলিকা বালু লুটের মহোৎসব, নীরব প্রশাসন ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হরিতলা এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কেটে সিলিকা বালু উত্তোলনের যেন এক ‘মহোৎসব’ চলছে। প্রকাশ্যে দিন-রাত বালু উত্তোলন ও পাচার অব্যাহত থাকলেও অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক মাস ধরে হরিতলা এলাকায় নজিরবিহীনভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে। রাতভর শত শত ট্রাক্টর দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে ডামট্রাকযোগে বালু পরিবহন করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ কার্যক্রমকে ‘হরিলুট’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন সচেতন মহল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে বালু উত্তোলনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, বিগত কয়েক বছরেও এত ব্যাপকভাবে বালু লুট হয়নি। এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলছে না। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় পুরোদমে শুরু হয় বালু উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ডভাবে যুক্ত রয়েছেন একাধিক প্রভাবশালী ‘হেভিওয়েট’ ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এদিকে এ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে হরিতলা এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

এ প্রেক্ষাপটে বালু উত্তোলন বন্ধে ইতোমধ্যে এলাকাবাসী নড়েচড়ে বসেছেন, প্রতিবাদ সভা/মানববন্ধনের ও চিন্তাধারা করছেন তারা।

তবে এলাকাবাসী কে মেনেজ করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন বালুখেকোরা।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থায়ীভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে জনবিস্ফোরণের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, “হরিতলা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। দ্রুতই  অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে সচেতন মহল বলছে মাঝে মধ্যে অভিযানে নয়—স্থায়ীভাবে এ অবৈধ উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি, নচেৎ পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।


শেয়ার করুন