স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক। বিশেষ করে মাধবপুর থেকে নবীগঞ্জের আউশকান্দি পর্যন্ত অংশে প্রায়ই ঘটে সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য কোনো বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার না থাকায় অনেককে ঢাকায় পাঠাতে হয়। এতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে এবং অনেকেই স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
একজন সচেতন এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ট্রমা সেন্টারটি ১৩-১৪ বছর ধরে পড়ে আছে। অথচ প্রতিদিন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত এটি চালু করা এখন সময়ের দাবি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ট্রমা সেন্টারের ভেতরে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল চুরি হয়ে গেছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণের প্রায় এক দশক পর গত ৮ জুন গণপূর্ত বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ট্রমা সেন্টারের জন্য চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ কোনো পদ এখনো অনুমোদন করা হয়নি। ফলে এসব পদে কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ না হওয়ায় সেবা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, ট্রমা সেন্টারটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ট্রমা সেন্টারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল পদায়ন না হওয়া এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ না পাওয়ায় ট্রমা সেন্টারটি এখনো চালু করা যায়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে ট্রমা সেন্টারটি চালু করতে হবে। অন্যথায় কোটি টাকার এই প্রকল্পটি জনসাধারণের কোনো উপকারে আসবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো ট্রমা সেবা নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই দ্রুত এই ট্রমা সেন্টার চালু করা এখন শুধু স্থানীয়দের দাবি নয়, এটি একটি জরুরি জাতীয় প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।
