অটোরিকশার দখলে মাধবপুর মহাসড়ক ॥ ভোগান্তিতে মানুষ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ব্যস্ততম ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর বাজার এলাকায় অবাধে রিকশা চলাচল ও সড়কে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, যা জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে শত শত রিকশা এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রী ওঠানামার সময় অনেক রিকশাচালক সড়কের মাঝখানেই থেমে যান ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদেরও। ভুক্তভোগী রাশেদ আহমেদ জানান, প্রতিদিন কাজে যাওয়ার পথে তাকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়। তার অভিযোগ, রিকশাগুলো সড়কের অর্ধেক জায়গা দখল করে রাখে ফলে বাস ও ট্রাক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি জানান, মহাসড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একই অভিযোগ পরিবহন চালকদেরও। বাসচালক জাহিদ হোসেন বলেন, রিকশার কারণে প্রায়ই হঠাৎ ব্রেক করতে হয়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তবে দেশের অন্য কোথাও মহাসড়কে এমন চিত্র খুব একটা দেখা যায় না, কিন্তু মাধবপুরে এটি নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রণয় পাল জানান, বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট রিকশাস্ট্যান্ড না থাকায় চালকরা যেখানে-সেখানে  রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখছেন। এতে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ই সমস্যায় পড়ছেন। তার মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দ্রুত নির্দিষ্ট রিকশাস্ট্যান্ড স্থাপন ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও এর স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে মাধবপুর ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, মহাসড়কে রিকশা চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে জনসচেতনতার অভাব এবং বিকল্প ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। তিনি জানান, খুব শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে সড়ক দখলকারী রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে সুযোগ পেলেই রিকশাচালকরা সড়কে দাঁড়িয়ে যানজট সৃষ্টি করে। তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



শেয়ার করুন