চুনারুঘাট ইউএনও কার্যালয় ভবণ ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ভয়-আতংক

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পুরাতন তিনতলা ভবনটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল, সিঁড়ির কংক্রিট খসে রড বেরিয়ে আসা এবং ছাদের প্লাস্টার ধসে পড়লেও থেমে নেই সরকারি কার্যক্রম। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে চলছে অন্তত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের অফিস কার্যক্রম। প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে প্রবেশ করছেন সেবা নিতে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির বিভিন্ন অংশে গভীর ফাটল তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় কংক্রিট খসে পড়ে মরিচাধরা রড বেরিয়ে এসেছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকেও নিয়মিত প্লাস্টার খসে পড়ছে। ভবনের ভেতরে চলাচল করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষকে।

জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে উপজেলা নির্বাচন অফিস, যুব উন্নয়ন অফিস, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, তথ্য আপা কেন্দ্র এবং পরিসংখ্যান ও সেটেলমেন্ট অফিসসহ মোট ৮টি সরকারি দপ্তর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিদিন নির্বাচন অফিস ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে বিপুল সংখ্যক মানুষ সেবা নিতে আসেন। ভবনে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের অবস্থা খারাপ হলেও কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতেই ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার সংক্রান্ত সেবা নিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অফিসে আসেন। কিন্তু ভবনের প্রধান সিঁড়ির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ফাটলের ভেতর রড দেখা যাচ্ছে। এতে সবাই আতঙ্কে রয়েছেন। তথ্য সেবা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, শুধু সিঁড়িই নয়, অফিস কক্ষের ছাদেও একাধিক ফাটল দেখা দিয়েছে। প্লাস্টার খসে পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা সুদীপ কুমার দেব বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক এই ভবনে আসা-যাওয়া করেন। জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নির্মাণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পানি চুইয়ে পড়ার কারণে ভবনের ভেতরের রডে মরিচা ধরে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত পরীক্ষা ও সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



শেয়ার করুন