আজলপুর-ইসলাম কাঁচা সড়কের বেহাল দশা ॥ চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আজলপুর থেকে ইসলাম পর্যন্ত কাঁচা সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি পরিণত হয় হাঁটুসমান কাদা ও বড় বড় গর্তে। এতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের (৭ম পাতায়)   শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা মৌসুমে অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। পিচঢালা রাস্তা তো দূরের কথা, বৃষ্টির ছোঁয়াতেই পুরো পথটি যেন পরিণত হয় একপ্রকার মরণফাঁদে। যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে, ফলে স্থানীয়দের চলাচল নির্ভর করতে হয় কাদা মাড়িয়ে হাঁটার ওপর। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন জুতা-মোজা হাতে নিয়ে, কাদার মধ্যে দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয় তাদের। অনেক সময় পিছলে পড়ে বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষার সময় অনেকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতেও অনীহা প্রকাশ করছে বলে জানান স্থানীয়রা। অন্যদিকে, জরুরি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্স এই রাস্তায় প্রবেশ করতে পারে না। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা খাটিয়া বা চেয়ারে বসিয়ে কাঁধে করে রোগীকে মূল সড়কে নিয়ে যান। এতে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অতীতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথাও জানান এলাকাবাসী। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের কৃষকরাও ভোগান্তিতে রয়েছেন। উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে চরম কষ্ট পোহাতে হয় তাদের। অনেক সময় মাথায় করে বা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পরিবহন করতে হয়, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই দুরবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস মিললেও কার্যকর কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি তাদের। আজলপুর ও ইসলাম এলাকার বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটে এবং স্বাভাবিক চলাচল ফিরে আসে।

শেয়ার করুন