বানিয়াচংয়ে ধান ক্রয়ের আবেদনে অনিয়ম যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল ১১ হাজার

কাওছার আহমেদ রাসেল: বানিয়াচং উপজেলায় সরকারী গুদামে ধান বিক্রির জন্য ২৫০০০ আবেদন জমা পড়েছে। মাঠ পর্যায়ের অনেক কৃষকরা বলছেন তারা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান দিতে আবেদন করেননি। স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর যাচাই বাছাই শেষে লটারীর জন্য ১৪৮৮০ জন কৃষকের তালিকা প্রস্থুত করেছে। এই তালিকার সূত্র ধরে মোবাইল ফোনে অনেকের সাথে কথা বলে পাওয়া যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। তালিকায় দেয়া মোবাইল নাম্বারের সাথে আইডি কার্ডধারীর মিল নাই। কেউ কেউ নিজের আইডি কার্ড সম্পর্কে ও অবগত নন। আবার কেউ কেউ ৫০০/১০০০ টাকার কথা বলে ও আইডি কার্ড নিয়ে এসেছেন। তালিকায় একই পরিবারের ৫/৭ জনের নাম ও উঠে এসেছে। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা গুচ্ছ গুচ্ছ ভাগ হয়ে ভিন্ন কৌশলে আইডি কার্ড সংগ্রহ করে আবেদন করেছেন। প্রকৃত পক্ষে এই তালিকার বেশির ভাগই কৃষক নন। এতো আইডি কার্ড সংগ্রহের পেছনের গল্প আরো ভয়াবহ। বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেউ কেউ ফটোকপির দোকান থেকে টাকা দিয়ে এনআইডি সংগ্রহ করেছেন। প্রাইমারী ও মাধ্যমিক স্কুলের অফিস সহকারীকে ম্যানেজ করে ও এনআইডি সংগ্রহের খবর পাওয়া গেছে। আইনজীবিরা বলছেন এতে এনআইডি কার্ড ব্যবহারে ঝুঁকি বাড়ছে।

হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুর আহমেদ শাহীন বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও এন,আইডির তথ্য সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।

প্রান্তিক কৃষকরা জানান, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে কৃষকদের ধান সরবরাহে জটিলতা, মাঠ পর্যায়ে প্রচারণার অভাব, গুদামে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ভোগান্তিতে ধান দেয়া সম্ভব হয়না।

সুজাতপুরের কৃষক আশরাফুল মিয়া বলেন, ধান ক্রয়ের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। পাড়া প্রতিবেশীর আইডি কার্ড গ্রামের একজন নিয়ে আবেদন করেছেন। আমি শুনেছি। অথচ তিনি একজন প্রকৃত কৃষক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোষ্টের মন্তব্য কলামে সাবেক ছাত্রদল নেতা কবির আহমেদ লিখেন কৃষকরা আবেদন করতে পারেনা।তাই আইডি কার্ড সংগ্রহ করে নিজেই আবেদন করেছেন।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ৩মে রবিবার উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্ধোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন।উদ্ধোধনের পূর্বে উপজেলা হল রুমে ধান সংগ্রহে লটারীতে দুইজনের নাম ঘোষনার পর লটারী স্থগিত করা হয়।লটারী চলাকালীন সময়ে কৃষকের খোঁজ করা হলে প্রকৃত একজন কৃষক ও উপস্থিত ছিলেন না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,১৪ এপ্রিল থেকে ম্যানুয়েলী আবেদন  প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল শেষ হয়। পরবর্তীতে ধান চাল সংগ্রহ কমিটির সিদ্ধান্তে ২১ এপ্রিল থেকে আবার গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।আবেদনের  শেষ সময় ২৮ এপ্র্রিল নির্ধারিত হলে ও ৩০ এপ্রিল রাত ১২ টা পর্যযন্ত আবেদন প্রক্রিয়া সচল ছিলো। স্থানীয় খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,বানিয়াচং উপজেলায় এবছর সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ২২০৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এ কর্মসূচী চলবে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। এবিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলাম বলেন,ভূয়া মোবাইল নাম্বার, একই নাম্বার বারবার ব্যবহার ও বানানো আইডি কার্ড দিয়ে আবেদন আমরা যাচাই বাছাই করে ১১০০০ জনকে বাতিল করেছি। এর মধ্যে আরো অধিকতর যাচাই করা হবে। ৬ এপ্রিল বুধবার লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচিত করা হবে। লটারীর পরও  যদি এন,আইডি কার্ডের সাথে কৃষকের ভিন্নতা থাকে তা বাতিল করা হবে। এমনকি লটারীতে বিজয়ী ব্যক্তি প্রকৃত চাষী কিনা তা কৃষি অফিসের  ডাটাবেইজে যাচাই করা হবে। যদি  বিজয়ী ব্যক্তি প্রকৃত চাষী না হন তার কাছ থেকে ধান ক্রয় না করার সুপারিশ করা হবে।

 


শেয়ার করুন