দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম চা বাগান হিসেবে পরিচিত মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে চরম প্রাথমিক বিদ্যালয় সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের বসবাস থাকা এ বিশাল বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার কথা তিনটি হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র একটি বিদ্যালয়। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ এবং চা শ্রমিক পরিবারের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের সাংবিধানিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার থেকে। উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সুরমা চা বাগানটি তিনটি ওয়ার্ডে বিভক্ত। এসব ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্য ফুল মিয়া, আব্দুল লতিফ, এনাম মিয়া এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য জবা ভৌমিক দীর্ঘদিন ধরে বাগানটিতে আরও দুই থেকে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন। মাধবপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, “বাগানটিতে আরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। নতুন করে আবারও অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।”
সুরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা নয়ন চৌধুরী বলেন, “এত বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় একটি বিদ্যালয় দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কয়েকটি কিন্ডারগার্টেনও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হলে চা শ্রমিক পরিবারের শিশুদের জন্য তা অনেক উপকার বয়ে আনবে।”
খবর বিভাগঃ
হবিগঞ্জ
