স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ রোগীকেই শেষ পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলে প্রতিদিন হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সেই তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ওষুধের অধিকাংশই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। সরকারিভাবে প্রায় ৬০ ধরনের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালের ফার্মেসিতে অধিকাংশ সময় পাওয়া যায় শুধু প্যারাসিটামল, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, ভিটামিন, কয়েক ধরনের মলম এবং মাঝে মধ্যে সিপ্রোফ্লক্সাসিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক। প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শিশু ও অন্যান্য জটিল রোগের অধিকাংশ ওষুধই হাসপাতালে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী জানান, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার আশায় এলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন না।
হাসপাতালের বহির্বিভাগেও প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় রোগীদের। চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে একজন চিকিৎসককে অস্বাভাবিক সংখ্যক রোগী দেখতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সেবাপ্রার্থীরা।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার জনসংখ্যা ও রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটিতে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, নার্স ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
সচেতন মহলের দাবি, হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় জেলার লাখো মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবেন।
