সরেজমিনে দেখা যায়, চার রাস্তার মোড়ের বিভিন্ন অংশজুড়ে টমটম দাঁড়িয়ে থাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে যাত্রী ওঠানামা, অন্যদিকে চালকদের দীর্ঘক্ষণ সড়ক দখল করে অপেক্ষা করার কারণে প্রায় সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। অনেক সময় কয়েকশ মিটার রাস্তা পার হতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যানজটের কারণে প্রায়ই অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী গাড়ি এবং জরুরি সেবার যানবাহনও আটকে পড়ে। এতে রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, তেমুনিয়া মোড়টি শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এখান দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে সড়কের বড় একটি অংশ দখল হয়ে থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।
এদিকে টমটম স্ট্যান্ডের পাশেই গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকানপাট। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে যেকোনো সময় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়ক দখল করে দোকান বসানোয় পথচারীদের চলাচলের স্থানও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড ও ফুটপাত দখলমুক্ত না করলে যানজট নিরসন সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে অবৈধ টমটম স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং অবৈধ দোকানপাট অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের এখনই সময়।
