স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর চলা এ নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিংবা স্থানীয় প্রশাসন কোনো স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে প্রতি বর্ষায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর শঙ্কায় থাকেন এসব গ্রামের মানুষ। এরই মধ্যে অনেকের ভিটা, চাষের জমি, বাগান সবই গেছে নদীতে। রাতে ভাঙনের মুখে বাড়িঘরের সঙ্গে মানুষও নদীর পেটে যায় কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন অনেকেই।
জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালনী-কুশিয়ারা নদীর পূর্ব পাশে হবিগঞ্জ আর পশ্চিম পাশে কিশোরগঞ্জ জেলা। বর্ষা এলে নদীর দুপাড়েই সমানতালে ভাঙন শুরু হয়। গত কয়েক বছরে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে নদী পাড়ের কয়েক শত বসতভিটা ও ফসলি জমি। সবকিছু হারিয়ে অনেক পরিবারকে ঠাঁই নিতে হয়েছে সরকারের দেওয়া গুচ্ছগ্রামে।
বর্তমানে আরও ১৫-২০টি ছোট-বড় গ্রাম সরাসরি ভাঙনের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলো এ দুর্যোগে চরম বিপাকে পড়েছেন। নদী পাড়ের অনেক বাসিন্দা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের আড় (বেড়া) দিয়ে কোনো রকমে ঘরবাড়ি রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির মিয়া বলেন, বর্ষা আসলেই তাদের দিন-রাত নির্ঘুম কাটে। নদী ধীরে ধীরে বসতভিটা ও ফসলি জমি গিলে খাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে বাঁশ দিয়ে কোনো রকমে আড় বেঁধে আটকানোর চেষ্টা করছেন গ্রামবাসী।
রমিজ আলী নামের অন্য ভুক্তভোগী বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলে শুধু পরিদর্শন করে যায়। আর খুব বেশি ভাঙন দেখা দিলে সামান্য কিছু জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলে। ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
আলী রাজা নামের এক বাসিন্দা জানান, তাঁর বসতভিটা নদীতে বিলীন হওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে, কিন্তু প্রশাসন তা রোধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
কাকাইলছেও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, বর্ষার শুরুতেই কালনী-কুশিয়ারার তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীপারের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে আছেন। এসব গ্রাম রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো দরকার।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, বেশ কিছু এলাকায় মাটি ও বস্তা ফেলে জরুরি কাজ করা হয়েছে। নতুন করে কোথাও ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত আছেন।
