চাকরির নিরাপত্তা-স্থায়ীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী-হুইপের কাছে স্মারকলিপি

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত, আউটসোর্সিংয়ে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ, চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। সমিতির কেন্দ্রীয়  আহ্বায়ক মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ মাঠপর্যায়ের সরকারি কার্যালয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারী ১০ থেকে ২৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তারা এখনো স্থায়ী নিয়োগ, চাকরির নিরাপত্তা ও মৌলিক শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত বলে দাবি করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় জারি করা ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’-এ দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষিত হয়নি। নীতিমালায় উৎসব ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ন্যূনতম মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বিধান না থাকায় কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের। এতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দক্ষ কর্মচারীদের আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় হস্তান্তরের উদ্যোগ তাদের চাকরির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পাশাপাশি মাসের প্রায় ৩০ দিন দায়িত্ব পালন করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাত্র ২২ দিনের মজুরি দেওয়া হচ্ছে, যা শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিকের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের প্রেক্ষাপটে পরিবার নিয়ে ন্যূনতম জীবনযাপন নিশ্চিত করার জন্যও যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দেওয়া স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়, ২০০৩ সালের ‘কাজ নাই, মজুরি নাই’ সংক্রান্ত পরিপত্র বাতিলের পর থেকে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীরা বিভিন্ন সাংবিধানিক ও শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর এ খাতে নতুন বরাদ্দ না দেওয়ার শর্তের কারণে ডাক বিভাগ, প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মিটফোর্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক মাস্টাররোল ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এবং আউটসোর্সিংয়ের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে অভিযোগ করা হয়। স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের কাছে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের বয়স শিথিল করে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণ বা আত্তীকরণ, বিনা কারণে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহাল এবং আউটসোর্সিংয়ে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে হাজারো দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী ও তাদের পরিবারের কর্মসংস্থান, জীবন-জীবিকা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।



শেয়ার করুন