সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন নৌঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিশেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মাজার জিয়ারতের নামে প্রায় আধা ঘণ্টা পরপর ছোট-বড় ভ্রমণ নৌকা চলাচল করছে। রঙিন সাজে সজ্জিত প্রতিটি নৌকায় ৫০ থেকে ৭০ জন যাত্রী রয়েছেন। উচ্চ শব্দে হিন্দি ও ডিজে গানের তালে নাচছেন নারী, পুরুষ ও হিজড়ারা। অনেকের পোশাক ও আচরণকে স্থানীয়রা দৃষ্টিকটু বলে অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদীপাড়ের একাধিক বাসিন্দা জানান, নৌভ্রমণের আড়ালে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে। দিন-রাত উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর পাশাপাশি কথিত নর্তকী, যৌনকর্মী ও হিজড়াদের দিয়ে অর্থের বিনিময়ে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে কিছু নৌকায় মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, দিনে নাচ-গানের আয়োজন হলেও রাতের বেলায় অনেকেই অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এতে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, নৌকাডুবি, সংঘর্ষসহ নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
বুল্লাবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “নৌভ্রমণ মানুষের বিনোদনের একটি সুন্দর মাধ্যম। কিন্তু কিছু উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীর বেপরোয়া আচরণ এবং অশালীন কর্মকাণ্ড এ আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নৌভ্রমণকে নিরাপদ ও পারিবারিক বিনোদনে পরিণত করতে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
