সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজীর সময় সাটিয়াজুরী রেল স্টেশনের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স পাইওনিয়ার এন্টারপ্রাইজ। ২০২১-২২ অর্থবছরে কাজ শুরু হয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে শেষ হলেও আজ পর্যন্ত স্টেশনটি চালু করা হয়নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা দিয়েছে। জানালার গ্লাস ভেঙে গেছে, দেয়ালের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হচ্ছে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম স্থানীয়রা ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করছেন। ভবনের আশপাশে গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণও চোখে পড়ে। পরিচর্যার অভাবে পুরো স্টেশন এলাকা ক্রমেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর স্টেশনটি কার্যত বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। নিয়মিত তদারকির অভাবে সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, একসময় সাটিয়াজুরী রেল স্টেশনটি আশপাশের শতাধিক গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম ছিল। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করতেন। কৃষিপণ্য ও মৃৎশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনেও স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। স্টেশনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ছিল প্রাণচাঞ্চল্য।
জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশনে একসময় একাধিক ট্রেনের যাত্রাবিরতি ছিল। তবে ধীরে ধীরে ট্রেনের সংখ্যা কমে যায়। পরবর্তীতে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে স্টেশনটিও কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো স্টেশন মাস্টার না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৮-৯৯ সালে স্টেশনটি বন্ধ ঘোষণার পর এলাকাবাসী রেললাইন অবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের মুখে কিছুদিন ট্রেন থামলেও পরে আবার যাত্রাবিরতি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মৃৎশিল্পীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন।
সাটিয়াজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হক সুজন বলেন, দ্রুত নবনির্মিত স্টেশন ভবনের উদ্বোধন করে কার্যক্রম চালু করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত এবং লোকাল ট্রেন পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বলেন, সাটিয়াজুরী স্টেশনটি ডি-ক্লাসের স্টেশন। এখানে স্টেশন মাস্টার প্রয়োজন হয় না। একজন বুকিং সহকারীসহ তিনজন কর্মচারী থাকলেই স্টেশন পরিচালনা করা সম্ভব। তবে বর্তমানে এই রুটে লোকাল ট্রেন চলাচল না থাকায় স্টেশন চালুর বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
