সুতাং নদীতে সেতু না থাকায় বছরের পর বছর দুর্ভোগে লাখাই’র ২৫ গ্রামের মানুষ

লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছে সুতাং নদীর ওপর একটি সেতু যেন দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। নদীর দুই পাড়ে পাকা সড়ক থাকলেও মাঝখানে সেতু না থাকায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে কাদা মাড়িয়ে খেয়া পারাপারই তাদের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস মিললেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুল্লা বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুতাং নদীর ওপারে থাকা গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নদীর ওপর একটি সেতু অত্যন্ত জরুরি। নদীর দুই পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও সেতুর অভাবে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে লাখাই উপজেলার এক অংশের মানুষকে অন্য অংশে যেতে অনেক সময় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া হয়ে ঘুরে আসতে হয়। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

বর্ষা মৌসুমে নৌকা বা খেয়া দিয়ে নদী পারাপার করা গেলেও শীত ও শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। নৌকা ঘাটে ভিড়তে না পারায় যাত্রীদের কাদা মাড়িয়ে নৌকায় উঠতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় সবচেয়ে বেশি। ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। স্থানীয়দের মতে, একটি সেতুর অভাবে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এই অঞ্চলের মানুষ।

এদিকে, কৃষিনির্ভর লাখাই উপজেলার ভাটি অঞ্চলে রয়েছে বিস্তীর্ণ হাওর। প্রতিবছর এসব হাওরের হাজার হাজার বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। খেয়া নৌকায় ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পারাপার করতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি রয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারের আমলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যরা সুতাং নদীর ওপর সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যায় ভুগলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন, নদীর দুই পাড়ে সড়ক থাকার পরও একটি সেতুর অভাবে কেন এতগুলো গ্রামের মানুষকে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হবে?

স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের অন্য কোনো বড় উন্নয়নের প্রয়োজন নেই। আমরা শুধু এই একটি ব্রিজ চাই। এই ব্রিজটি হলে আমাদের যাতায়াতের কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে। এটি এখন আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো।”

এলাকাবাসীর দাবি, সুতাং নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, বরং কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলও নিরাপদ হবে।

তাই লাখাইয়ের ভাটি অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করতে সুতাং নদীর ওপর দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সেতু নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।




শেয়ার করুন