উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে হবিগঞ্জের চা শ্রমিকদের জীবন

দীর্ঘদিনের অবহেলা, বঞ্চনা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির বেড়াজাল পেরিয়ে বদলাতে শুরু করেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন খাতে নেওয়া নানা উদ্যোগে এসব বাগান এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের ভাষ্য, সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল এবং তাঁর ছেলে শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদের উদ্যোগে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা চা বাগানগুলোতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আগে দুই উপজেলার ২৩টি চা বাগান পরিদর্শন করে শ্রমিকদের জীবনমান ও বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে দেখেন সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। সে সময় ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদেও চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। সুরমা চা বাগানের এক বাসিন্দা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি জানানো হলে সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দ থেকে সুরমা টি গার্ডেন আইডিয়াল হাই স্কুল, সুরমা চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাহঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তেলিয়াপাড়া সেন্ট জোসেফ বিদ্যালয়ে বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও সিলিং ফ্যান সরবরাহ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। লস্করপুর ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদের উদ্যোগে চন্ডিছড়া চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলো জেলার মধ্যে প্রথমবারের মতো ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্দির সংস্কার, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, শ্রমিক পরিবারে ছাগল বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে চা শ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, "চা শ্রমিকদের উন্নয়নকে আমরা সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি। তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চা শ্রমিকদেরও উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে হবে। সে লক্ষ্যেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।" স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলার পর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি চা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে তাদের প্রত্যাশা, ভূমির অধিকার নিশ্চিত হলে এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান আরও টেকসইভাবে উন্নত হবে।



শেয়ার করুন