স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন-চার দিন ধরে বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। দিনে কয়েক দফা এবং রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমানে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার দিনের বেলায়ও বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পরীক্ষার হলে বসতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক প্রস্তুতি ও পরীক্ষায় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা ও দোকানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার, ফ্রিজ, ফটোকপি, প্রিন্টিংসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ঠিকমতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ীকে বিকল্প ব্যবস্থায় কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে ব্যবসায়িক খরচ, কমছে বেচাকেনা।
স্থানীয় গ্রাহকরা জানান, লোডশেডিং এখন আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কখন বিদ্যুৎ আসবে আর কখন চলে যাবে, তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। দিনে-রাতে মিলিয়ে ১৭-১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
এদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। অনেকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করছেন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে স্থানীয় গ্রাহকরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘বানিয়াচং বিদ্যুৎ সেবা - Unofficial’ নামের একটি পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ভুলতা গ্রিডের কাছাকাছি ভুলতা-টু-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ওয়াই-ফেজের কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে বিকল্প ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ হয়ে নরসিংদী গ্রিড উপকেন্দ্র সচল রাখা হচ্ছে। এতে শাহজীবাজার গ্রিড থেকে বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ লোড পাওয়া যাচ্ছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই পোস্টে পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পাঁচটি স্প্যানের কন্ডাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় মালামাল ও ঠিকাদার ব্যবস্থা করে এসব স্প্যানের কন্ডাক্টর পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হবে। মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে এমন দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। দ্রুত জাতীয় গ্রিডের ত্রুটি মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দুর্ভোগের সময়ে গ্রাহকদের নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গ্রাহকদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতেই পারে। কিন্তু কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং সমস্যার প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার এই সময়ে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
