জানা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার ছোট-বড় দোকানে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করা হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অধিকাংশ মানুষ রান্নার কাজে এই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দাম কমানোর ঘোষণার কয়েকদিন পরও আগের দামেই গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার তদারকির অভাব এবং ডিলার ও সরবরাহকারী পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কারণে সরকারি মূল্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে সাধারণ ভোক্তারা সরকারের মূল্য কমানোর সুবিধা পাচ্ছেন না।
ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা আমির আলী বলেন, "সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর কয়েকটি দোকানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি।"
মনতলা এলাকার ব্যবসায়ী সায়েত মিয়া বলেন, "দাম কমার খবর শুনে স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে এখনো আগের দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে।"
এদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই আগের দামে গ্যাস কিনছেন। তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
খুচরা বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, "নতুন দামে এখনো সিলিন্ডার পাইনি। ডিলার কম দামে দিলে আমরাও কম দামে বিক্রি করব।"
জগদীশপুর এলাকার এক ডিলার জানান, তিনি সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই গ্যাস সরবরাহ করছেন। তবে কোনো খুচরা বিক্রেতা বেশি দামে বিক্রি করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, "সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে এলপিজি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভোক্তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি কিনতে পারেন।"
স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে সরকারি মূল্য কার্যকর হবে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল পাবেন।
